শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা

Posted by

শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো

পাঠ ১: ভূমিকা:

  • শাল দুধ কি ও মায়ের দুধের উপকারিতা, এবং শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো সম্পর্কে ধারনা। মায়ের দুধ দেয়ার সময় সঠিক পজিশন ও এ্যাটাচমেন্ট, মায়ের দুধ গেলে বের করা ও পালানো দুধ শিশুকে খাওয়ানো এবং সংরক্ষণ করা পদ্ধতি।
  • শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানোর সময় কিছু অসুবিধা ও তার সমাধান।
  • শিশুকে মায়ের দুধ দেয়ার ব্যাপারে কুসংস্কার-সমূহ এবং বিএমএস কোড সম্পর্কে জানতে পারবেন।

 

পাঠ ২ : শাল দুধ

  • মায়ের দুধ শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ। শিশু জন্মের পরপরই শিশুকে শাল দুধ খাওয়ানো বিশেষ প্রয়োজন। শিশুকে ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের দুধ দিতে হবে, এ ছাড়া এক ফোঁটা পানিও না।
  • শিশু জন্মের পর প্রথম ৩-৫দিনের মধ্যে মায়ের স্তন থেকে হলুদ রঙ্গের ঘন আঠালো যে দুধ বের হয় তাকে শালদুধ বলে। শালদুধে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ এবং অন্যান্য ভিটামিন থাকে যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শিশুর জন্মের পর পরই ( ১ ঘন্টার মধ্যে শিশুকে শালদুধ খাওয়ানো বিশেষ প্রয়োজন।

পাঠ ৩: মায়ের দুধের উপকারিতা

মায়ের দুধের উপকারিতা অনেক। সেগুলো হলো- শিশুর উপকারিতা-

  • শাল দুধ শিশুর জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর মায়ের দুধে এন্টিবডি থাকে যা শাল দুধে প্রচুর পরিমানে বিদ্যমান। এই এন্টিবডি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শিশুর অসুখ কম হয় যেমন- জন্ডিস, ডায়রিয়া, কান পাকা, সর্দি-কাশি, চুলকানি, নিউমোনিয়া, সেপসিস ইত্যাদি হবার সম্ভাবনা কমে যায়, এছাড়াও এতে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে।
  • পরিমানে কম হলেও এই শালদুধ প্রথম ৩ দিনের জন্য শিশুর যাবতীয় পুষ্টির উৎস।
  • জম্মের পর পরই শিশুকে মায়ের বুকে দিলে সে দুধ চুষে খেতে শিখে এবং এতে মায়ের দুধও তাড়াতাড়ি তৈরী হয়।
  • শাল দুধ শিশুর প্রথম কালো পায়খানা বের হতে সাহায্য করে।

পাঠ ৪: শিশুর উপকারিতা:

  • শিশুর শরীরে যতটুকু পানির দরকার তা মায়ের দুধে বিদ্যমান।
  • শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ালে মা ও শিশুর বন্ধন দৃঢ় হয়।
  • মায়ের দুধ সবসময়ই নিরাপদ। এটি বাসি হওয়া এবং সংক্রমিত হবার কোন সম্ভাবনা নাই।
  • সবসময় সঠিক তাপমাত্রায় থাকে এবং এই দুধ তৈরীর ঝামেলা নাই।
  • মায়ের দুধ শিশুর চোয়াল, দাঁত ও মাড়ি গঠনে সহায়তা করে।
  • মায়ের দুধ দেয়ার সময় মায়ের শরীরের সাথে লেগে থাকার কারণে শিশু মায়ের উষ্ণতা পায়, যা শিশুর জন্য খুব প্রয়োজন।
  • শিশুর অসুস্থতার সময় দিনে-রাতে ঘন ঘন মায়ের দুধ দিলে শিশু তাড়াতাড়ি অসুখ থেকে সেরে উঠে এবং অপুষ্টি থেকে রক্ষা পায়।

পাঠ ৫: মায়ের উপকারিতা

জন্মের পর পরই শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ালে:-

  • মায়ের জরায়ু দ্রুত সংকুচিত হয় এবং তাড়াতাড়ি আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
  • গর্ভফুল তাড়াতাড়ি বের হয় এবং রক্তপাত কম হয় ( সেজন্য সিজারিয়ান সেকশনের পরও শিশুকে দুধ দেয়ার জন্য মাকে সাহায্য করতে হবে)
  • মায়ের দুধ বেশী পরিমানে তৈরী হয়
  • মা মানসিক তৃপ্তি পান

পাঠ ৬: পরিবারের উপকারিতা:

কৃত্রিম দুধ, দুধ তৈরির সরঞ্জামাদি ক্রয় এবং জ্বালানি খরচ বেঁচে যায় শিশু কম অসুস্থ হয় তাই তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় ও খরচ বাঁচে পরিবারের অর্থ সাশ্রয় হবে এবং সর্বোপরি মায়ের তথা পরিবারের দুশ্চিন্তা কমে।

পাঠ ৭: শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানো

জন্ম খেকে পূর্ণ ৬ মাস (১৮০দিন) পযর্ন্ত কোন শিশুকে শুধুমাত্র মায়ের দুধ দেয়া, বাইরের কোন খাবার বা এমনকি এক ফোঁটা পানিও দেবার প্রয়োজন নেই, শিশুর পুষ্টি রক্ষার জন্য এসময় শুধুমাত্র মায়ের দুধই যথেষ্ট।

পাঠ ৮: মায়ের দুধ দেয়ার সময় সঠিক পজিশন ও এ্যাটাটমেন্ট

পাঠ ৯: সঠিক পজিশন (অবস্থান) এর ৪টি মূল বার্তা

  • শিশুর মাথা ও শরীর একই লাইনে থাকবে
  • শিশুর শরীর মায়ের সাথে নিবিড়ভাবে লাগানো থাকবে।
  • মা শিশুর সমস্ত শরীর ভালভাবে ধরে থাকবে।
  • শিশু যখন স্তনের দিকে এগোবে তখন তার নাক বোঁটা বরাবর থাকবে।

পাঠ ১০: সঠিক এ্যাটাচমেন্ট (সংযোগ) এর ৪ টি মূল বার্তা

  • শিশুর মুখ বড় করে হা করা থাকবে।
  • নিচের ঠোঁট বাইরের দিকে উল্টানো থাকবে।
  • শিশুর থুতনি মায়ের স্তনে লেগে থাকবে।
  • স্তনের কালো অংশ নিচের দিকের চেয়ে ঠোঁটের উপরের দিকে বেশী দেখা যাবে।

পাঠ ১১: মায়ের বুকের দুধ গেলে বের করা

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে মায়ের দুধ গেলে বের করার প্রয়োজন:

  • মায়ের যখন বাইরে কাজ করতে যান।
  • কম ওজনের জন্ম নেয়া শিশু যারা মায়ের দুধ টেনে খেতে পারে না।
  • মারাত্নক অসুস্থ শিশু যারা মায়ের দুধ টেনে খেতে পারে না।
  • মায়ের বুকে দুধ জমে স্তন ফুলে গেলে।
  • মায়ের স্তনের বোঁটা ফেটে গেলে বা ঘ হলে।

পাঠ ১২: মায়ের দুধ গেলে বের করার নিয়মাবলী

  • মাকে পানি অথবা তরল জাতীয় খাবার বেশী করে খেয়ে নিতে হবে।
  • গরম পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে বুকে একটু শেক দিয়ে নিতে হবে।
  • মায়ের হাত সাবান দিয়ে ভালাভাবে ধুতে হবে।
  • দুধ গেলে রাখার পাত্রটি বড় মুখওয়ালা একটি বাটি বা কাপ হতে হবে এবং তা ভালভাবে পরিষ্কার করে নিয়ে মাকে আরামদায়ক ভাবে বসতে হবে।
  • বুড়ো আঙ্গুল স্তনের উপরের কালো অংশে রেখে বাকী ৪টি আঙ্গুল দিয়ে স্তনের নীচে কালো অংশে আস্তে আস্তে বার বার চাপ দিতে হবে এবং ছাড়তে হবে, এভাবে বার বার করতে হবে।

One comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *